মিলিয়ে দেখুন, আপনি কি এ দলেঃ
বয়সের সাথে ভালোলাগা বা মন্দলাগার পরিবর্তন হয়। জীবন চক্রে এই পরিবর্তন সেভাবে টের না পেলেও সময়ের গ্যাপে বুঝা যায়।
কিশোর বয়সের ভালো লাগা যৌবনে পরিবর্তিত রুপে দেখা দেয় । আবার কর্মজীবনে নতুনরুপে ভালোলাগা এবং এর পরিধি পুরোন ভালোলাগা থেকে আলাদা হয়ে পড়ে।
সংসার হলেতো সব উলোটপালট। অনেকটা শাসনে বা নিজের স্বাধীনতা ছোট হয়ে যাবার ঘটনাও ঘটে । সন্তান হলেতো কথাই নেই । নতুন প্রজন্মকে নিয়ে তখন আলাদা জগৎ ।
সাংসারিক দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে দেখা দেয়, ভালোবাসার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি হয় । নানান অভিযোগ বা অনুযোগে এক ধরনের দ্বন্ধ তৈরি হয়। দ্বন্দ্ব সংঘাতের মাঝামাঝি অবস্থান নিশ্চিতে ভালো ম্যানেজারিয়াল রোল প্লে না করতে পারলে জটিল সময় পার করতে হয় ।
সন্তান বড় হওয়া মানেই তার শাসন, খবরদারিও নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি করে। তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে চলে নতুন সমীকরণ । এ সময়ে নিজের পছন্দ অপছন্দ একেবারেই অধরা হয়ে যায় । মনোযোগ শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে।
চোখের পলকে সময় চলে যায় । শরীর-স্বাস্থ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।দাড়ি চুল সাদা রং ধারন করে। চলতে ফিরতে ধীর গতি আসে। খাবারের স্বাদের তারতম্য ঘটে । অবসাদ ঘিরে ধরে। কিসের অভাব টের পাওয়া না গেলেও অভাব বোধ জাগে ।
সন্তান চলে যায় দুরে। তার বা তাদের নিজস্ব জগৎ হয়। আমারা সে জগতে বেমানান। আমাদের জগতে তারাও। অনেক সময় আমাদের খেত বলে বেমানানের যুক্তি দেয় ।
ক’দিন আগেও যে আড্ডা বা গল্পের বন্ধু দারুন লাগত ঠিক সেই দারুন লাগা ভললাগেনায় রুপ নেয় । যে অফিস বা কর্মক্ষেত্র দিনের বেশী সময় গিলে খেত বা সেই গিলে খাওয়া উপভোগের ছিল সেটি আজ আর তেমন নেই ।
যে খ্যাতি বা জশের নেশায় বুঁদ হতাম সেটিও নেই তেমন। মামলা জিতলে আহা কি আনন্দ, হারলে ঘুমহীন রাত। এখন তেমন জেতা বা হারার আনন্দ আক্ষেপ হয়না। মন খারাপের উপকরণ অন্য অনেক ইস্যুতে। নতুন পোশাক বা বাহারি খানাপিনায় নেই আগ্রহ । আয়রন করা পোশাক আর বাধ্যকর নয় । দারুন বেমানান আমি এই সেদিনের তুলনায় ।
সেদিন, আজ, আগামীকাল কত কাছে অথচ আমি চলে এলাম বহু দুরে, আগামীকালে পৌঁছে যেতে চোখের পলক। চোখের পলকে গত হয়েছে অর্ধ শতকেরও বেশী বছর । ঘন্টা দিন মাসে অনেক ।
চশমা বদলাই বছরে দুবার। প্রতি তিনমাস রুটিন রক্তের ১০/১৫ আইটেমের পোস্টমটেম। বড় বড়ি, ছোট বড়ি বা ক্যাপসুলের সংখ্যা বাড়ে ফি বছর। তৃণভোজি হতে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন। টোটকা চিকিৎসা চলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। বেগমের তেতো জল বা নিরামিষ খাবার সয়ে গেছে শরীর।
আমি কি তাহলে নতুন জীবনে। আমি কি তাহলে রিটায়ারড পিরিয়ডের প্রবেশ দ্বারে, আমি কি একলা ভালো লাগা সময়ে। আমি কি এখন পৌষের শেষ বিকেলে।
কি লাভ রসহীন বেঁচে থাকা, কি লাভ রুটিনে আবদ্ধ থাকা, কি লাভ অনুগ্রহের ক্ষন গুনে বাঁচা । ইন্দ্রিয়ের স্বাদ নেই মানেই বাতিল মাল। বাতিল মাল হয়ে বাঁচা বড় বোঝা।
হিসেব মিলে না, হিসেবের খাতায় বড় বেমিল ।।
ব্যারিসটার ওমর ফারুক
বসুন্ধরা, সন্ধ্যা, ৯/৯/২৬