যখন সবাই ভয়ে আতংকে তখন আমি ঘুমে। বেগমের মেরাথন চিৎকারে জেগেই টের পেলাম ভয়ংকর কিছু হচ্ছে। ঝাড় বাতি গুলো দুলছে, বেশ জোরে দুলছে পুরো বিল্ডিং। আমি কোথায় লুকাবো ঠিক করতে পারলাম না। খাটগুলো এখন ফ্লোরের সাথে প্রায় লাগানো। সেখানে লুকাতে না পেরে এই রুম কি সেই রুম শেষে বেগমের পাশে গিয়ে সেজদার মত কত সেকেন্ড। আবার উঠে বেঁচে থাকার তাগিদে ছাদে উঠলাম। বেগম আমার অবস্থা দেখে এ ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও হাসিতে কুটিকুটি।এ পরিস্থিতির মাঝেও তিনি সব বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করে দরজায় তালা মেরে কম্পনের শেষে ছাদে উঠলেন।
প্রতিবেশী ভাতিজি ভে ভে করে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো মেঝেতে বসে। ঘরের চাবি না পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে আরেক প্রতিবেশী। ছাদে উঠে দেখলাম অধিকাংশ মানব মানবী রাস্তায়।
ফাইজা স্কুল থেকে ফোন করেছে তাদের আনতে। লং স্কার্ট পরা অবস্থায় হাঁটতে লাগলাম। বেগম আর আমি ওদের স্কুলে যাবার পথে শুনলাম কেউ বলছে তাদের ক্রোকারিজ সব পড়ে ভেঙেছে, আয়নাগুলো বা জানালার গ্লাস ভেঙেছে অনেকের।
আফতাবনগর থেকে এসোসিয়েট ফোন করে খবর নিল। সেখানে তাদের সহ চার-পাঁচটা বিল্ডিং এ ফাটল ধরেছে। তাদেরও ঘরের ভিতরে সব এলোমেলো হয়েছে। মা ফোন করেছে মাইজদী থেকে। বাচ্চাদের সাথে ভয়ের বিবরনের আদান প্রদান হলো।
ভয়ংকার পরিস্থিতির আধেক টের পেলাম। মনে হলো আমরা মৃত্যুর দিকে দ্রুত এগুচ্ছি।
কয়েক সেকেন্ডের তান্ডব বা ভয়ংকর পরিস্থিতি মনে করে শুধরে যাই।
ভালো হয়ে যাও…