গ্রাম সমাচারঃ
গ্রামের সেই জীবন নেই, শুধু ঝুপড়ি ঘরে চা দোকান ছাড়া। না থাকারই কথা। বৈশ্বিক পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। ঘরবাড়ি পাকা হয়েছে, আসবাবপত্র শহুরে আদলে। তবে উল্টো ছোঁয়া লেখাপড়ামুখি হবার বিষয়ে।
মোবাইল ফোন বাচ্চাদের হাতেও। তারা অধিক
সময় ব্যয় করে সে ফোনে। স্কুল ড্রপ আউট ছেলে-মেয়েদের সংখ্যা বহু। ৫০% হবে। আমার জানাশুনা কাছের মানুষ এ তালিকায়। অধিকাংশের বাবা মরুর তপ্ত বালিতে কাজ করে বা বিদেশ বিভুইয়ে। ঘরের কর্তা মা। নরম/ কোমল মা বাবার অনুপস্থিতিতে সব সামলাতে পারেন না।
সন্ধ্যার পর জমে উঠে রাস্তার মোড়ে বা চা দোকানে দল বেঁধে মোবাইল গেম নিয়ে তাদের মেরাথন আড্ডা। দিনেও তাদের সময় কাটে এখানে সেখানে দলবেঁধে। ওদের না দেয়া যায় উপদেশ না দেওয়া যায় বিধি নিষেধ। ওরা শহুরে ভাষায় কিশোর গ্যং।
মাদক সহজলভ্য। মাদকে তচনচ বহু পরিবার। পরিবারের কর্তা অসহায়। মায়ের কথা কে শোনে। রাত বারোটায় বাইরে থাকে ১৪-১৮ বছরের ছেলে। ওরা হিরো। ওদের দল ভারি। ওরা যখন তখন অপমান করে যাকে তাকে। ওরা রাজনৈতিক শেল্টারে।
বহু মৃত্যু, বহু পংগু চোখের সামনে জুলাই বিপ্লবে। শহীদ হওয়ার তালিকায় কম বয়সি অধিকাংশ। বড় বা বিশাল পরিবর্তন হবে ভেবে আমরা আনন্দ উল্লাস করেছি। হয়ত ঐ পরিবার গুলো ভেবেছে তাদের সন্তান স্কুল মুখী হবে বা এখন আর মাদক সহজলভ্য হবে না। এখন রাজনীতি হবে কিশোর গ্যাং সংশোধনে বা নির্মূলে। রাজনীতি হবে সন্ধার পর রাস্তার উপর আড্ডা নিষিদ্ধের মাধ্যমে। নেতা এলাকা টহল দিবে। নেতা ফরমান জারি করবে যারা স্কুলে যায় না তাদের স্কুলে যেতে হবে বা তাদের জন্য বিকল্প ভোকেশনাল কাজের ব্যবস্থা করবে। কত এনজিও কতকি নিয়ে কাজ করে অথচ সোনালী প্রজন্ম যাদের বহু কিছু হবার কথা তাদের নিয়ে তেমন কিছু নেই।
রাজনীতিতো সমাজের অড নির্মুলে। যত কম পড়াশোনা তত বেশি রাজনৈতিক লাঠিয়াল উৎপাদন। এই তত্ব এখনো চলমান। অবুঝ কিশোর জানে বা বুঝে না তাদের সোনালী জীবনের বিনিময়ে নেতার ভাগ্য। নেতা বড় হয়, নেতার ক্ষমতা বাড়ে। নেতার সন্তান ওদের সাথে মিশে না।
বাচ্চা ছেলেদের নিয়ে রাষ্ট্র কি ভাবছে। পাঠ্য বইয়ে সামাজিক ব্যাধি কি বর্নিত আছে? তার উওরনের পথ ও ভাবনা লিপিবদ্ধ আছে বা হবে?
সবাই এম এ, বি এ পাস করবে তা নয়। তবে কর্মে থাকতে হবে। রাষ্ট্র কর্মের ব্যব্যসথা করবে। সংবিধানের ১৫ কর্ম নিশ্চিত করতে বলেছে।
স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, মক্তবে ঠাসা এই জনপদ নিয়ে ভাববার সময় শেষ হয়ে যায় নি। আসুন তরুন প্রজন্ম, আমাদের অতি আপন, ভুল পথে হাঁটা অবুঝদের নিয়ে ভাবি, তাদের সুবিধা বা অসুবিধার বিষয়ে মনোযোগী হই। তাদের ভাষায় কথা বলি, ধীরে ধীরে তাদের ভুলগুলো শুধরে দেই। প্রয়োজনে তাদের সময় কাটানোর স্পেস তৈরি করি।