শিরোনামহীনঃ
লিখতে বলেন অনেকে। লিখছেন না কেন? প্রশ্ন পাই বহু। বিশেষ করে কোট নিয়ে, কোটের কাজ কারবার নিয়ে। কোটের বাইরের নানান অসংগতি নিয়ে।
লিখার পরিবর্তে কথা বলছিতো। অনেক কথা। অনেক বিষয়, অনেকের সাথে। তবুও লিখার আবেদন বহু। এই যে কোটে প্রতিদিন মেনশনের নামে কত শত ঘন্টা নষ্ট হয় পাবলিক সময়। এই যে মামলা শুনানি করা যাচ্ছে না। মামলা হাড ইন পাট, রায়, রায়ের তারিখ পেছানো আট দশ বার, এফিডেভিট ছাড়া মৌখিক সাবমিশনে মামলা খালাস, সবিতো চলে। বড় আসলে, বলেছি নেতিয়ে যায়। বড়র কথা বলে মামলা পেছানো যায়। নথি পড়ে বা আরজি পড়ে সিদ্ধান্ত দেবার সময় কৈ? মামলার নিয়তি, কষ্ট (পরাজিত মামলার উভয়পক্ষের খরচ বহন করবে) দেবার মাধ্যমে পরিসমাপ্তি কোথায়? আদালতের আদেশ মান্য হয়না। দুই তিন বছর পর আপীল। সেই আপীলে দুই তিন বছরের আদালত অবমাননার কথা আলোচনাই থাকেনা। যদিও কালে ভদ্রে আদালত অবমাননার মামলা হয় তার পরিসমাপ্তি ক্ষমা প্রার্থনা মনজুরে শেষ হয়। এখন বিবৃতি দেয় জুডিশিয়াল সার্ভিস সমিতি, পুলিশ সার্ভিস সমিতি, এডমিন সার্ভিস সমিতি। ক্ষমতা তাদের অপার। কয় মাস আগেও ফরমায়েসি রায়, আদেশ হতো। বড়”র ইচ্ছাই সব হতো। খালাস, শাস্তি, মাফ সবি হতো। জামিন হয়নি জামিনযোগ্যের বছরের পর বছর আর ৪০১ এ করুনা, আবার তা দাম্ভিকতার সহিত প্রচার করা। ক’দিন আগেও বড় এর সন্তুষ্টিতে আয়োজন করে পএিকায় মাননীয়দের লিখা। শপৎবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি, ছবি টাংগানো, রায়ে অদ্ভুত সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি, শিবের গিত, অযাচিত উপকরণে ঠাসা রায়, আবার সে রায় আয়োজন করে প্রচার করা। মামা কোট, শালা-দুলাভাই, রুমমেট, ব্যাচমেট বা বন্ধু কোটের গল্প স্বয়ং তেনারাই বলেছেন মিডিয়ায়। ঘুষ খাওয়ার গল্প একেবারেই ওপেন সিক্রেট। তারা আবার উপরে যায় ফেরেশতা সেজে, ভালো যারা তাদের লেং মেরে।
এখনো চলে কোটায় নিয়োগ। পা চাটার প্রতিযোগিতা। এখনো মেরুদণ্ড সোজা করে চলা, মেধাবীরা আনফিট রয়ে আছে, এখনো সেই মিয়া ভাই, যে সবাইকে বুড়িগঙ্গায় মারবে বলেছে, চলে সব সেই আদলে। সিন্ডিকেট ভাংগার নামে এসেছে নতুন সিন্ডিকেট। পাএ পাএি পরিবর্তন হয়েছে, সব চলছে আগের নিয়মে। ওমুক দাঁড়ালে হারবেনা বিদ্যুত বেগে রটেছে। লাইফ আমৃত্যু সাজার আসামির জামিন হয় বছর না যেতে। হয়ত শুনিবে একদিন ফাঁসির আসামির জামিন শুনানি।
ওরা যারা সকালে আর বিকেলে আদালত বেচা কেনার কেপটেন ছিল তারা নতুন টিম বানিয়েছে একেবারে আগের মতন। রেইট বেড়েছে। দিনের ব্যাবধানে বড় নামকরা উকিলে সয়লাব এখন এ পবিএ স্থান।
মন খারাপের দারুন সব উপকরণ হাজির হয় প্রতিদিন। সরকার বাহাদুর বা রাষ্ট্র বহু ক্ষমতায় আছে আগের মতন। ইচ্ছা হলে দাঁড়ায়, আটকে দেয় অপছন্দের কাউকে, চুপ থাকে পছন্দের কারো বিষয়ে। মসজিদে যাকে দেখি রোজ সেও। হায় এসবে যদি হাট এটাক হয় জুলাই বিপ্লবের পংগুদের বা যদি শহীদ জেগে উঠে কবর থেকে। ভালো যারা তারা চুপসে থাকে বা চেষ্টা চালায় মেরুদণ্ড সোজা রাখার।
সব কিছুর পরেও ভালো চলে, ভালো আছে, নিবু নিবু প্রদীপ জালিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টায়। শান্তনা এটুকু কথা বলার কারনে রক্ত ঝরেনি, ঝরেনি আগেও। সব বলা যায় না, সব নাকি বলতে নেই। নিজের রোজগারের যায়গা নিয়ে বেশি বলতে নেই। যারা আছে নিবু প্রায় প্রদীপ জ্বালাতে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। শ্রদ্ধার্ঘ্য তাদের প্রতি যারা এখনো স্বাধীন বিচারব্যবস্থার জন্য লড়াই করে, স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন বাচানোর লড়াইয়ে সবার আগে। এখনো যারা মেধাবী খোঁজে, খোঁজে সাহসী মেরুদণ্ড ওয়ালা রাজবিচারালয়ে। এখনো যারা ঠেকিয়ে দেয় ওইযে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্তের জামিন বা বড় করপোরেটের বড় অন্যায়, তাদের জন্য আশির্বাদ।
বেঁচে থাকুক মংগলের আশা বেঁচে থাকুক মংগলের সহযাত্রী।
ব্যরিস্টার ওমর ফারুক
সিনিয়র আইনজীবী
সুপ্রিম কোর্ট