মাইজদী, এই শব্দে কত কিছছা কাহিনী। জীবনের বহু কিছুতে জড়িয়ে আছে এই নাম। কৈশর, তারুন্য, যৌবন সবিতো এই শব্দের ভিতর।
নষ্টালজিয়ার পুরোটাই মাইজদীতে। এক রাস্তার শহর। জেলা হেডকোয়ার্টার। বাংলাদেশের একমাত্র জেলা শহর যার নাম জেলার সাথে বেমিল। পুকুরে, দীঘিতে ঘেরা নিরিবিলি শহর। বিশ বছর আগেও তাই ছিল। রাজনৈতিক সহিংসতা ছিল না। দুই তিন পক্ষ মিছিল করতো পাশাপাশি, পাল্টা পাল্টাপাল্টি শ্লোগান, সাময়িক উওেজনা রক্তপাত ঘটায়নি। কলেজে মারামারি হতো লাঠিসোটা হাতে।
সেই শহরে সবাই জানাশোনা। বড় ছোট বা দশ বিশ বছরের বড় ছোট পরিচিত। মাইজদী বাজার টু সোনাপুর ছিল শহরের ব্যাপতি। হেডকোয়ার্টার ছিল ফল্যাট বা সরকারি আবাসিক এলাকা। শহর দেখতে এখানে আসতো।
জিলা সকুল, গার্লস সকুল বা মিশানারী ছিল পছন্দের সকুল। অপরাপর স্কুলও মন্দ ছিল না। অরুন চন্দ্র বা হরিনারায়নপুর ছিল সবার বাতিঘর। সোনাপুর আলিয়া মাদ্রাসা আলেম বানানোর কারখানা। ধর্ম কর্মে এগিয়ে এ শহর। খেলাধুলা, সংস্কৃতি বা রাজনীতি সবাই মিলেমিশে করতো।
ফ্ল্যাট কাটিয়েছি প্রায় ৪০ বছর। প্রতিটা বাসার হাঁড়ির খবর সবাই জানতো। মমতায় ভরা এক সমাজ। তেল, চিনি, নুন, পেঁয়াজ নেইতো কি হয়েছে, পাশের বাড়ি আছেতো। টাকা দরকার, হাত খালি পাশের ভাই ভাবি আছেতো। কত প্রতিবেশীর কাছে ঋণী।
গরু পালতেন বাবা। বাসায় খাঁটি দুধ খাবার জন্য কত বন্ধু বা স্বজন আসতো। কত গল্প, আহা সবাই এখন স্মৃতি। সময় গেছে চোখের পলকে। কত শত মুখ চোখে ভাসে, কত শত অস্পষ্ট, কত কত মনেই করতে পারিনা।
রাজনীতি করতাম মনে প্রানে। কলেজ ছিল উড়ন্ত স্বাধীনতা। বই থেকে আড্ডা প্রিয় হয়ে, ক্লাস থেকে ছেরাদের কেন্টিন আর রাজনৈতিক মিছিল মিটিং আপন হয়েছে। টাউন হলের বক্তৃতা নেশার মতো ছিল। চা দোকানী, রিক্সাওয়ালা ছিল রাজনৈতিক বন্ধু। তাদের ছাড়া মিটিং জমতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন খেটে খাওয়া মানুষের ছিল।
পাবলিক লাইব্রেরিতে কত সময় পার করেছি বক্তৃতার মালা সাজাতে। যায়যায়দিন আর বিচিএা, ইওেফাক, ইনকিলাব ছিল নতুন ইনফরমেশন এর উপকরণ। রব মাইক এক পায়ে দাঁড়ানো। কত টাকা বাকী পড়ে আছে জানা নেই।
কত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা কবরে। আহা তাদের পরম যত্ন, স্নেহ ভালোবাসা আজো গায়ে মাখা। জীবিতগন এখনো খবর নেন। বন্ধুরা এখনো বলে সেই দিনের কথা। কারো অমঙ্গল বা ক্ষতির কারন হইনি জানামতে। মেজাজ গরম এই অপবাদ এখনো বয়ে বেড়াই। হঠাৎ রেগে যাবার বদ বা বাজে সিমিত করার চেষ্টা চলমান। বন্ধু হারিয়েছি অলাভজনক বিষয়ে দ্বিমত করে বা হেতুহীন ইগোইজমে। কত বন্ধু বেড়েছে বিনা আয়োজনে। কত অপরিচিত আপন হয়েছে। কত ব্যাপকতা পরিচিত মন্ডলে। সব কিছুতে পুরোন স্বাদ খুঁজে বেড়াই। ৮০/৯০ দশকের সেই স্বাদ পাইনা। এক কাপ চা ভাগ করা, সিংগারা তিনজনে খাওয়া, সিগারেট বহু খন্ডে বুকিং দেওয়া নেইতো।
মাইজদী শহর আমার আনন্দের যায়গা। ফল্যাট আমার ভালোবাসা, আবাসিক এলাকা প্রিয় শব্দ প্রিয় ঠিকানা, পুকুর, মাঠ, খালবিল, সকুল কলেজ সব প্রিয় আমার।
বন্ধু, স্বজন, বড় ছোট সবার কাছে মিনতি ক্ষমা করো।
মাইজদীতে যাচ্ছি, মাকে দেখবো, শহর দেখবো। কয়েক ঘন্টা পুরোনো স্মৃতি হাতড়াবো। বন্ধু কি খবর বল, যদি দেখা হয়।